বাগান ও রাজনীতি বিষয়ক

বাগান ও রাজনীতি বিষয়ক

আমার তিনার সতিন হচ্ছে গিয়ে আমার বাগান। রোজ রোজ তিনার গর্জন শুনতে হতো, আইজকাই পুরা পুঁইশাকের গুষ্টির তুষ্টি করুম। সক্কালে উঠেই এক বিকট গর্জন, কয়েন প্লান্ট এতো জল খাইলে কেমনে কি! দ্যাশে তো আকাল পড়বে ভাই! রাইতে তিনার কোলে থাকে ল্যাপটপ, মুখে সিগারেট আর চায়ের ফাঁকে ফাঁকে চলে খোঁচানো, ঐ তোমার গাছে কদু আইবো কবে? আমারে তো শাক খাওয়াইলা না তোমার সব পিরিত গাছের লগে, আমারে পাইছো খাম্বা! কথা কও গাছের লগে, আমারে পাত্তা দেওনা…. ইত্যাদি! ঢাকার বাইরে থেকে বাসায় ঢুকেই দেখতাম মিলিবাগের উছিলায় আমার সাধের হাসনাহেনার ডালে চলেছে নির্মম কাঁচি! ডালপালা মেলা কাঠগোলাপ ছিল তিনার জন্মের শত্রু। সাধের পরটুলাকার নাম কিছুতেই তিনার জিভে সড়গড় হয়না, বলেন পোটলা! একমাত্র আমার জলগোলাপই ছিল তিনার আদরের।

নারায়ণগঞ্জ থেকে শিমুল আপার পাঠানো গাছ তিনিই বাড়ি এনেছিলেন বলে একটা মায়া ছিল মনে হয়। এছাড়া আর সব গাছই তিনার চরম পরম শত্রু তিনার জিনিসপত্র যেভাবে রাখেন সেরকমই রাখতে হয়, এই নিয়ে রোজই খচরমচর লাগে।সারা বাড়িতে বই, ছেঁড়া কাগজ, প্যাডের স্তুপ। লফটে তুলতে তুলতে নাকাল দশা। শেষে রফা হলো তিনার স্টাডি রুমের লাগোয়া বারান্দায় আমি জরিমানা হিসেবে বাগান করে দিবো। বদলে তিনি তাঁর সব হাবিজাবি নিয়ে নিজের এলাকায় শান্তিপূর্ণ বসবাস করবেন বাগান তো করা হবে গাছ চলে আসবে আমার বাগানি ভাই বোনেদের পেইজ থেকে কিন্তু মাটির কী হবে!

রেডি সয়েল অনেকেই হোম ডেলিভারি দিতে রাজি ছিলেন কিন্তু সাততলায় এসে কে কবে মাটি দিতে রাজি হন!!কথা এগিয়েও এতো উঁচুতে এতো মাটি লাগবে জেনে সকলেই পিঠটান দিলেন। কিন্তু উত্তরবঙ্গের মানুষদের মধ্যে একটা অদ্ভুত সারল্য রয়েছে। কেউ যা করতে রাজি হলোনা আমারশিমুল ভাই সেই কাজও করে দিলেন। আমি কেবল Green Me পেইজে গেলাম আর দরকারি সব জিনিস অর্ডার করলাম। আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেরই এক আত্মীয়কে পাঠালেন প্রথমে ত্রিশ কেজি মাটি দিয়ে। পরে আবার আরো মাটি, সার, গ্রোথ স্টিক পাঠানোর ব্যবস্হা করলেন৷ আমার পুরানো বাড়ি, লিফট নাই। এই যন্ত্রণার কারণে বাসায় খুবই সামান্য আসবাবপত্র নিয়ে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।সেই আমার জন্য শিমুল ভাইকে এতো হাঙ্গামা সইতে হলো যা বলাই বাহুল্য।

অনেকেই বলবেন আমি গাছ বা মাটি কিনেছি, টাকা খরচ করে মাটি কিনেছি ব্যস৷ কিন্তু আমি অর্ডার করেই ফের আউট অব স্টেশন হলাম, শিমুল ভাই নিজে দায়িত্ব নিলেন সব আমার বাসায় পৌঁছে দেবার৷ টাকা আমি দিয়েছি সত্য কিন্তু সেটা মাটি পাবার পরে, আগে না। আর রেডি মাটি এতো সুন্দর ভাবে তৈরী করে দিয়েছেন যে ঐ মাটিতে আমাকে আর আলাদা করে কোন সার বা নদীর বালি মেশাতে হয় নাই। জাকারিয়া সাহেবের বাগানের জন্য সবচেয়ে জরুরী আর দরকারি কাজটাই সেরে দিলেন শিমুল ভাই, সত্যি সত্যি আপনি আমার সাগাই বটে। প্রার্থনা করি আপনার জীবনের সবক্ষেত্রেই সফলতা আসুক।

দুই

দক্ষিণ ভারতে এক নায়িকার নামে মন্দির আছে। সেই নায়িকার নাম খুশবু। প্রবল জনপ্রিয় এই নায়িকার মন্দির গড়ে রীতিমতো পুজা করা হয়।

আপনি চাইলে মানে আপনি যদি সত্যি সত্যি কাউকে পুজা করবার মতো যোগ্য মনে করেন তবে তাঁর মূর্তি গড়ে বা না গড়েও পুজা করতেই পারেন। ঘটে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবেন, ছবি বা পট রাখবেন। নয়তো গড়বেন কাদামাটির মুর্তি। দেবতার বিগ্রহে তো তার চিন্ময় রূপ কল্পনা করেই পুজা করা হয়। অনেকের কাছে সারা দেশের সমস্ত রকম ভাস্কর্যই মূর্তি।

ইসলামের দৃষ্টিতে সব রকমের মূর্তিই নিষিদ্ধ বলে বিশ্বাস করেন নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশের অধিকাংশ মুসলমান। একদল সাফাই গাইতে নেমেছেন যে, মূর্তি মানে যার পুজা করা যায়। আর ভাস্কর্য হলো শিল্প। তো ভাস্কর্য হলে ঠিকাছে আর মুর্তি হলেই রে রে করে তেড়ে আসবেন? ভাস্কর্য বলে সাজিয়ে রেখে নিজেরে প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ বলবেন আর মুর্তি হলেই নিজের ভিতরের মডারেট মুসলমান গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে!
আপনারা কি ভয় পাচ্ছেন যে নেতার ভাস্কর্যকে বিগ্রহ মেনে বাংলার মানুষ প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে পুজা দিতে শুরু করবে!সাকিব আল হাসান ক্ষমা চাইবার পরেও বাংলার তৌহিদি জনতার আক্রোশ থামছেনা।

আর কতো সুবোধ দেশান্তরি হলে, ভিটামাটি ছাড়া হলে আপনাদের নব্বই শতাংশ মুসলমানের কলিজা ঠান্ডা হবে?

লিখেছেন
অনসূয়া যূথিকা

মানুষের জীবনে সুখ বা দুঃখ কোনটাই একটানা চলতে পারেনা ...স্হায়ী হয়না৷তাই জীবনের চলার পথে যাই কেননা সামনে আসুক তার মোকাবেলা করতে হবে..এটাই জীবন৷তাই সুখের সময় আনন্দের আতিশয্যে ভেসে যাইনা ৷ আবার চরম দুঃসময়েও ধৈর্য্যহারা হইনা৷আমি কেবল যে ঈশ্বর বিশ্বাসী তা নয়... আমি ঈশ্বর নির্ভর৷

সব পোস্ট দেখুন
মন্তব্য করুন

লিখেছেন অনসূয়া যূথিকা