Sexual Harrasmant

বাংলাদেশে ধর্ষণঃ পরিসংখ্যানে ও বাস্তবতায়

বাংলাদেশে ধর্ষণ সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স, এবিউজ, এসল্ট- এসবের যে মহামারী, তার পেছনে বাংলাদেশের বদ্ধ সমাজ ব্যবস্থা, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, নারীর উপরে পুরুষের ক্ষমতা ও আধিপত্য চর্চা, নারীকে চারদেয়ালে বন্ধ করে রাখা, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যাবতীয় ক্রাইসিস, জবরদস্তি প্রভৃতির কথা যখন বলা হয়- তখন একটা যুক্তি বেশ জোরের সাথে সামনে আনা হয়। ইউরোপ আমেরিকায় যে এত নারী স্বাধীনতা, নারীরা যে এত বাইরে যায়, সবকিছু এত ওপেন- কোথায় সেখানেও ধর্ষণ, সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স নাই হয়ে যায়নি, বরং বাংলাদেশের চাইতে (এবং সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোর চাইতে) মেলা মেলা বেশি। অনেকে তো এমনটা দাবি করেও ফেলে- ঐসব দেশে সবকিছু এত “খুল্লাম খুল্লা” বলেই ধর্ষণ এত বেশি। জাকির নায়েকও এক লেকচারে বলেছিলো- নারীকে রক্ষার মূল উপায় হচ্ছে তাকে ঢেকে রাখা তথা পর্দা করা, আমেরিকা – ইউরোপে মেয়েরা এত ছোট ছোট কাপড় পরে, রাতে বিরাতে পার্টি করে, মদ খায়, মেয়েদের উপরে বাবার, ভায়ের, পরিবারের, স্বামীর কোন নিয়ন্ত্রণ নাই বলেই- ঐসব দেশে এত বেশি ধর্ষণ!

এই যে এমন দাবি, তার পেছনে তাদের হাতে সবচাইতে বড় অস্ত্র হচ্ছে পরিসংখ্যান। কেননা ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে ধর্ষণের হার বাংলাদেশ, ভারত, আরব দেশগুলোর চাইতে অনেক বেশি। বাংলাদেশ, ভারত, চীনের মত জনবহুল দেশের ক্ষেত্রে যেকোন পরিসংখ্যানেই হার (বা প্রতি লাখ/ মিলিয়ন মানুষে কত) বেশ কম দেখায়। কিন্তু, সংখ্যার বিচারেও দেখা যায়, বাংলাদেশের চাইতে এ দেশগুলোতে ধর্ষণের সংখ্যা বেশি। যেমনঃ ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মাত্র ৬৩৫ টি (২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ১০৮০ ও ১৫৩৮, সূত্রঃ নিউজ ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, বাংলাদেশ পুলিশ, গবেষণাঃ অধিকার), সেখানে ১ কোটি ৭২ লাখ মানুষের দেশ নেদারল্যাণ্ডে ২০১৮ সালে ধর্ষণের ঘটনা ১৯০০ টি (সূত্রঃ নেদারল্যাণ্ড পুলিশ, প্রকাশিতঃ এনএল টাইমস)। নেদারল্যাণ্ডে যারা বাস করে না, এখানে নারীর চলাফেরায়, যেকোন সময়ে যেকোন জায়গায়- যে সেইফ ফিলিং সেটা তাদের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন হবে, তারা যদি এরকম পরিসংখ্যান যদি পাশাপাশি রাখে, মনে হবে- বাংলাদেশের চাইতে নেদারল্যাণ্ডে নারীদের কত খারাপই না অবস্থা, নেদারল্যাণ্ডে বুঝিবা নারীরা কন্টিনিউয়াসলি রেপড হচ্ছে! বস্তুত ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু পরিসংখ্যানে তা প্রকাশিত হয় না কেন?

প্রধান কারণগুলো হচ্ছেঃ

বাংলাদেশ, ভারত, সৌদি আরবের মত দেশগুলোতে রিপোর্টেড ধর্ষণের ঘটনা নেদারল্যাণ্ড, জার্মানি, সুইডেন এর মত ইউরোপের দেশগুলোর চাইতে অনেক অনেক কম। মানে, বাংলাদেশে যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তার খুব সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়, ভিক্টিম বা তার পরিবার সেগুলো নিয়ে এক্সট্রিম অবস্থা বাদে থানা পুলিশ করতে যায় না। আবার, থানা পুলিশ পর্যন্ত যতটুকুও বা যায়- তার বড় অংশই কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ না নিয়েই ফিরিয়ে দেয়। যাও বা অভিযোগ নেয়, মামলা হয়- তার বড় অংশই আবার তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতিতে দুর্বল মামলা হিসেবে আদালতে যায়। একজন ভিক্টিম ধর্ষণের পর থেকে পরিবার, থানা পুলিশ, আইনজীবি, আদালত, বিচারক- সব জায়গাতেই হেনস্থার শিকার হয়। ধর্ষকরাও অনেক সময়ে হয় ক্ষমতাধর, ফলে তাদের হুমকি ধামকিও থাকে সমানভাবে। এর বাইরে আছে- ধর্ষিতা নারী ও তার পরিবারের প্রতি সামাজিক শেমিং, পরিবার প্রথমেই চিন্তা করে- ধর্ষণের কথা জানাজানি হলে মেয়েটির ও মেয়ের যদি আরো বোন থাকে, তাদের বিয়ে হবে কিভাবে! সবমিলেই অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনাই এখানে চাপা পড়ে যায়। নেদারল্যাণ্ড, সুইডেন, জার্মানিতেও অনেক সময়ে ভিক্টিম একরকম ট্রমা, সেলফ শেমিং থেকে চেপে যায়, কিন্তু চেপে যাওয়ার এই হারটা বাংলাদেশের মত দেশগুলোর চাইতে অনেক অনেক কম, এবং এরকম চেপে যাতে না যায়- সেজন্যে পুলিশ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, আইনী নানান সংস্থা বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করে।

বাংলাদেশের সবচাইতে ক্ষমতাহীন, প্রান্তিক নারীকে ধর্ষণ করা সবচাইতে সহজ ও নিরাপদ। যৌনকর্মীদের ধর্ষণ করা এখানে জায়েজ। রাস্তার ধারে, স্টেশনে বাস করা নারী, শিশু, কিশোরীদের ধর্ষণ করা জায়েজ, তারা থানা পুলিশের কাছে যাবে কি, পুলিশ নিজেও এরকম ধর্ষণকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকে। সৌদি আরবের বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মীরা যারা কোনরকমে দেশে ফিরতে পেরেছে- তাদের কাছেও আমরা বাড়ির পুরুষদের কাছে বছরের পর বছর ধর্ষণের কথা শুনেছি, পুরো সময়কালটায় কোথায় যাবে, কোথায় রিপোর্ট করবে, কিভাবে প্রতিকার করবে- এসব সম্বন্ধে কোন ধারণাই তাদের ছিল না। কেউ বা যদি পালিয়ে কোনরকমে সৌদি পুলিশের কাছে গিয়েছেও- মামলা তো নেয় নাই, উল্টো হেনস্থা করেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশ মনিবকে ডেকে মনিবের হাতে আবার তুলে দিয়েছে। এইসব ধর্ষণের ঘটনার কোনটাই সেখানকার পরিসংখ্যানে স্থান পায় না। একই অবস্থা বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের অসংখ্য বাসাবাড়িতে শিশু-কিশোরী কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করে (এখন সংখ্যাটা কমেছে) … তাদের ক্ষেত্রেও, সম্মতি, এজ অব কনসেন্ট- এসবের কোন বালাই নাই, অনেকেই ধর্ষণের শিকার, থানা পুলিশের কথা এখানে কল্পনাতীত। নেদারল্যাণ্ডেও নারী-পুরুষের পাওয়ার ডিফারেন্স আছে, এবং পাওয়ারফুল পুরুষ লেস পাওয়ারের নারীকে রেপ করতে পারে, কিন্তু পাওয়ার ডিফারেন্সটা এরকম আকাশ পাতাল না যে লেস পাওয়ারের নারী রাষ্ট্রের কাছে প্রতিকার চাইতে পারবে না বা কল্পনাই করতে পারে না!

ধর্ষণের সংজ্ঞা। বাংলাদেশে ম্যারিটাল রেপ কোন রেপ না। আইন অনুযায়ী কোন স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে পারবে না। আইনে থাকলেও তারতম্য কিছু হতো না, কেননা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ এমনই যে- স্বামীরা মনে করে তার যখন যৌন চাহিদা তৈরি হবে, তার স্ত্রী সম্মতি প্রদান করতে বাধ্য বা সম্মতির কোন প্রশ্নই এখানে নেই, এমনকি কোন নারী যদি শারীরিক কারণেও (মানসিক কারণের স্কোপ নেই) সেক্স করতে না চায়, সেটা আমলে নেয়া তো দূরের কথা – গালাগালি, মার, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। এমন নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগ নারী কল্পনাও করতে পারে না – তাকে তার স্বামী ধর্ষণ করেছে। সে কাঁদবে, স্বামী নিষ্ঠুর, জোর করে, অমানবিক, নির্যাতন করে, মারপিট করে- এসব কিছুই হয়তো সে বলবে, কিন্তু এটাও যে একটা ধর্ষণের ঘটনা- তা তার কল্পনারও বাইরে। অন্যদিকে- ইউরোপের ধর্ষণ ঘটনাগুলোর অধিকাংশই হচ্ছে স্বামী, লাইফ পার্টনার, এক্স পার্টনার, ক্লোজ ফ্রেণ্ড কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা। এরকম ক্ষেত্রগুলোকে বাংলাদেশে বস্তুত ভিক্টিম নিজেই ধর্ষণ বলে মনে করে না বা স্বীকার করে না, যারাও বা মনে করে বা স্বীকার করে- তাদের জন্যে আইনী কোন উপায় নাই। (এর বিপরীতে, বাংলাদেশের আইনে আবার একধরণের কনসেঞ্চুয়াল ধর্ষণও আছে, যাকে প্রতারণামূলক ধর্ষণ বলা হয়। অর্থাৎ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতিতেই যৌন সম্পর্ক করার পরে আর বিয়ে করতে রাজী না হলে তা হচ্ছে প্রতারণামূলক ধর্ষণ। এরকম ধর্ষণের মামলাও বাংলাদেশে অনেক হয়, যার মূল উদ্দেশ্য থাকে অভিযুক্তের নামে মামলা দিয়ে বিয়েতে রাজী করতে চাপ দেয়া। ফলে, এমন ঘটনাগুলোকে যদি বাদ দেয়া হয়- তাহলে বাংলাদেশে রিপোর্টেড ধর্ষণের সংখ্যা অবশ্য আরো কমে যাবে।)

বাংলাদেশে কোন পুরুষ, বালক, ছেলে শিশু- কেউই ধর্ষিত হয় না। ধর্ষণের আইনটির নাম হচ্ছে- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ফলে বয়স্ক পুরুষের (তরুণ – যুবক – মধ্যবয়স্ক – পৌঢ়) ধর্ষণের কথা সেখানে থাকার স্কোপ নেই, কিন্তু ছেলে শিশুরও ধর্ষণ বিষয়ক কোন উল্লেখ নেই। যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে ছেলে শিশুর উল্লেখ আছে, কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে নেই। অর্থাৎ বাংলাদেশে ছেলে শিশুকে যৌন নিপীড়ন করা গেলেও ধর্ষণ করা যায় না। অথচ, বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছেলে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়, পরিবারের বয়স্ক সদস্য, পাড়া মহল্লার কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে, গৃহশিক্ষক, স্কুল – মাদ্রাসা – মক্তবের শিক্ষকের দ্বারা।

আরো কিছু ছোটখাট কারণ আছে, কিন্তু আমি মোটাদাগে এই চারটা কারণকেই সামনে দেখি। তবে, কারণ যাই থাকুক – নেদারল্যাণ্ডের এক বছরে ১৯০০ ধর্ষণের পরিসংখ্যানটা দেখে বেশ অবাকই হয়েছিলাম। কেননা, বাংলাদেশে গত বছর ১৫০০+ ধর্ষণ, এ বছর ১০ মাসে হাজারের বেশি ধর্ষণ- এরকম খবর দেখেই যেখানে শিওরে উঠি, সেখানে ১৯০০ সংখ্যাটাকে বিশাল মনে হয়। অথচ, এখানে কোন নারী, শিশ- কিশোরী, তরুনী কিংবা বয়স্ক- কাউকেই চলাফেরায়, ঘুরতে ফিরতে কোনরকম ভয়ে বা চিন্তায় থাকতে হয় না। এর কারণ অবশ্য এখানে রাস্তাঘাটে, বাসে, ট্রেনে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের হার অনেক কম। আরেকটা কারণ, গণ ধর্ষণ এবং ধর্ষণ করে খুনের মত ঘটনা এখানে নেই বললেই চলে। অধিকারের গবেষণাটিতে দেখা যাচ্ছে ২০২০ সালের ১৫৩৮ টি ধর্ষণের মধ্যে ৪৯ টি ক্ষেত্রে ধর্ষিতাকে খুন করা হয়েছে (৩%) এবং ৩৪৫ টিই হচ্ছে গণধর্ষণ (২২%)। নেদারল্যাণ্ডে এরকম ধর্ষণের পরে খুন এবং গণধর্ষণ এর ঘটনা একদম রেয়ার, যেগুলো ঘটে সবই খুব সিরিয়াস ঘটনা হিসেবে বিবেচিত, আলোচিত হয়। ২০১৯ এর একটা ঘটনা দেখেছি- যেখানে ১২ ও ১৬ বছরের কিশোরিকে রেপ করেছে তিন ছেলের একটা গ্রুপ, যাদের দুজনের বয়স ১৭ ও একজনের ১৪। এই ছেলেরা মেয়েদুটোর পরিচিত ছিল এবং তাদের প্রতি ভালো লাগাও থাকতে পারে, মেয়েকে নিয়ে হ্যাং আউটে বের হয়ে ধর্ষণ করেছে। মেয়েটা তার বাবা মাকে বলেছে, পুলিশ রিপোর্ট হয়েছে, মিডিয়ায় এসেছে- পুরো তোলপাড় হয়েছে। কোথাও কেউ বলেনি- মেয়েটা কেন ঐ ছেলেদের সাথে হ্যাং আউটে যাবে, বরং এই কথাটাই জোরেশোরে বলা হয়েছে-

‘They like to hang out with them, but that does not give the boys the right to abuse them… we want to make it clear to the girls that they can set the boundaries and the boys should respect them.’

অন্যদিকে ধর্ষণের পরে খুনের ঘটনা তো আরো কম। সেই ঘটনাগুলোও খুব আলোচিত ঘটনা হিসেবে তোলপাড় হয় এবং সেগুলোতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয় (১২ বছরের সাজা)। এরমধ্যে সবচাইতে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে- ১৯৯৯ সালের মারিনে ভাটস্ট্রার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ১৯৯৯ সালে ১মে নেদারল্যাণ্ডের ফ্রিজল্যাণ্ড প্রোভিন্সের ছোট্ট গ্রাম ভেইনক্লোস্টারের মাঠে ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরীর লাশ পাওয়া যায়, আগের দিন সে কলুম গ্রাম থেকে সাইকেলে চড়ে তার বাবামা’র গ্রাম ওয়েস্টারিনে আসছিলো, কিন্তু তারপরে তাকে পরদিন মাঠে উদ্ধারের আগ পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মেরে মাঠে ফেলে রাখা হয়। এই ঘটনায় পুরা এলাকাবাসী প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা নেদারল্যাণ্ডে এমন রেয়ার ছিল যে- সবার সন্দেহ চলে যায়, পাশের এসাইলাম প্রার্থী শরণার্থী শিবিরের উপরে। এর জের ধরে সেখানে রায়ট পর্যন্ত হয়। ঐ সময়ে পুলিশ মেয়েটির মৃত শরীর থেকে ধর্ষণের যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করে, শরীরে থাকা সিমেনের ডিএনএ টেস্ট হয়। কিন্তু, ধর্ষক ও খুনী কে বা কারা- তা উদ্ধার করতে পারে না। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে এলাকার শ খানেক মানুষের ডিএনএ স্যাম্পল নেয়া হয়, কিন্তু লাভ হয় না। মামলা বন্ধ হয়, আবার ২০০২ পুনরায় ওপেন হয়, কিন্তু সুরাহা হয় না। এভাবে চলতে থাকে। ১২ জন গ্রেফতার হয়, ৯০০ জনের ডিএনএ টেস্ট হয়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হয়। কলুম এসাইলাম সেন্টারের দুজন ইরাকির প্রতি সন্দেহ ছিল, কিন্তু তাদের ডিএনএ, ফিঙ্গারপ্রিন্টও মেলে না। আবার মামলা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৬, ২০০৭, ২০১০ সালে পার্লামেন্টে কথা উঠে। অবশেষে ২০১২ সালে আবার তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থলের ৫ কিলোমিটার রেডিয়াসে ৮০০০ পুরুষের ডিএনএ স্যাম্পল নেয়া হয়। তারপরে, ধর্ষককে পাওয়া যায়, ঘটনাস্থল থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরের এক ডাচ কৃষক। কাছাকাছি সময়ে একই রকমের আরেক আলোচিত ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয় ১১ বছর বয়সের আরেক বালক, তার মামলাও ২০ বছর পরে এসে নিষ্পত্তি হয়। ১৭৫০০ জনের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছিলো। ঘটনা দুটো উল্লেখ করলাম এ কারণেই যে, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নেদারল্যাণ্ডে কি রকম সিরিয়াসলি দেখা হয় এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এরা কোন পর্যন্ত যেতে পারে, সে সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে!

সূত্রঃ

১/ অধিকার ডট অর্গের ফাইণ্ডিংসঃ
* http://odhikar.org/wp…/uploads/2021/01/Rape_2001-2020.pdf
* http://odhikar.org/…/upl…/2021/01/Stalking_2010-2020.pdf
* http://odhikar.org/…/2021/01/Attempt-to-Rape_2014-2020.pdf

২/ নেদারল্যাণ্ডের আইন নিয়ে এমনেস্টির পর্যালোচনাঃ https://www.amnesty.org/…/Docu…/EUR3524552020ENGLISH.pdf

৩/ নেদারল্যাণ্ডে ধর্ষণঃ
https://nltimes.nl/…/fewer-crimes-registered-nl-sex-crimes
https://www.statista.com/…/registered-sex-crimes-in…/

৪/ বাংলাদেশের আইনঃ
http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-835/section-32516.html
http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1207.html

৫/ Three youths, 17 and 14, arrested for raping girls in Rotterdam
https://www.dutchnews.nl/…/three-youths-17-and-14…/

৬/ 17,500 Dutchmen Gave Their DNA in a Murder Inquiry. After 20 Years, an Arrest.
https://www.nytimes.com/…/netherlands-murder-dna.html

৭/ Dutch police arrest 8 suspects in gang rape investigation:
https://apnews.com/article/2e7de3870b2d4fa7b1dc47836cb86f5a

৮/ Murder of Marianne Vaatstra:
https://en.wikipedia.org/wiki/Murder_of_Marianne_Vaatstra
https://www.rechtspraak.nl/…/18-jaar-voor-Jasper-S–in…

৯/ করোনাকালে বাংলাদেশে ধর্ষণঃ https://www.thelancet.com/…/PIIS2589-5370(21)00097-3.pdf

১০/ নেদারল্যাণ্ডে দুটো ধর্ষণ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় (ডাচ ভাষায়, গুগল ট্রান্সলেটেও অনেক কিছু বুঝা যাবে):
https://uitspraken.rechtspraak.nl/inziendocument…
https://uitspraken.rechtspraak.nl/inziendocument…

লিখেছেন
অনুপম সৈকত শান্ত
সব পোস্ট দেখুন
মন্তব্য করুন

লিখেছেন অনুপম সৈকত শান্ত