নারী ব্লগে লিখুন

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন,” পা দু’টা থাকিলেই ভ্রমণ করা যায় কিন্তু হাত দু’টা থাকিলেই তো আর লেখা যায় না।”

কিন্তু আপনি তো তাদের মতো নন। আপনার সুকোমল মন প্রজাপতির ডানায় ভর দিয়ে ওড়ে মন থেকে মনে, আর আকুলি-বিকুলি করে কাউকে কিছু একটা বলার। কিন্তু ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারেন না। তাই না বলা কথাগুলো কন্ঠনালীতে আটকে ধ্বক ধ্বক করতে থাকে; বলা হয়ে ওঠে না। লিখেনও চমৎকার। কিন্তু কে কি বলবে-এই দোলাচলে পোস্ট করে সাহস পান না। তাই আপনার অনুভূতি গুলির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এসেছি নারী ব্লগ নিয়ে। বলতে থাকুন, লিখতে থাকুন। আপনি ঠিক জায়গাতেই আছেন।

মনে রাখবেন নারী ব্লগে লিখিত সমস্ত লেখার স্বত্ত এবং এর দায়ভার লেখকের নিজস্ব। তাই নারী ব্লগ এখানে প্রকাশিত কোন লেখা সম্পাদনা করে না এবং লেখা সম্পর্কিত কোন মডারেটর নেই। নারী ব্লগ মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং আমরা কারো লেখার ভুল ভাল বিচার করি না।

কি লিখবেন?
ব্লগের নাম দেখেই বুঝতে পারছেন আমাদের উপজীব্য নারী। মানবী,মনুষ্যা, রমণী, নন্দিনী,আওরাত, জেনানা, অবলা, ভাবিনী,অন্তঃপুরবাসিনী, কিংবা অপরাজিতা-যে নামেই ডাকুন না কেন, তাদের নিয়ে লিখুন মনের মাধুরী মিশিয়ে।
হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’র একটি অধ্যায়ের নাম ‘দেবতা ও দানবী’। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘নারী পুরুষের কাছে এক অনন্ত অস্বস্তির নাম। কখনো পাপীয়সী হাওয়া অথবা পবিত্র মেরী মাতা’।

নারীর স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন একটি শিকল ভাঙ্গার দল। নারী ব্লগ সেই শিকল ভাঙ্গার দলের একজন হতে আগ্রহী। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, নারীর মুক্তিই দিতে পারে প্রকৃত গণতন্ত্র এবং একটি অগ্রসর সমাজ। নারীর দেহের এবং মনের অধিকার শুধু মাত্রই নারীর নিজের, পুরষের সেখানে কোন অধিকার নেই।

এ মুহূর্তে বিশ্বের বেশ কিছু দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা নারী। শিক্ষা-মেধায় নারী পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে এগোচ্ছেন, কোথাও কোথাও পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছেন। নারীর একই অঙ্গে অনেক রূপ। কখনও কন্যা, কখনও জায়া,সবার উপরে জননী। এদের নিয়েই কলম হাতে শুরু করুন।বনে যান একজন সেলিব্রিটি।

নারী ব্লগে কেন লিখবেন?

নারী ব্লগ একই সাথে লেখাপড়া, শেখা, শেখানো ও বিভিন্ন মতবাদ সম্পর্কে জানা এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অগুনতি মানুষের সাথে নিজের মনোভাব সহ মতবাদ স্বাধীনভাবে আদান-প্রদানের একটি প্লাটফর্ম। এছাড়া নিজেদের ভালোলাগা, আনন্দময় মুহূর্ত গুলো একই স্থানে জমা করা, দৈনন্দিন জীবনের খেরোখাতা। চোখের সামনে ঘটা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, ভ্রমণ, রোগ-শোক, শুভদিনের শুভেচ্ছা বিনিময়, রান্নাবান্না, রূপ চর্চা ইত্যাদির জন্য নারী ব্লগ হতে পারে অন্যতম একটি মাধ্যম।

ব্যস্ততম সময়ে খাতা-কলমের নিয়মিত ব্যবহার আমরা প্রায় ছেড়েই দিই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে। কিন্তু তার পরেও লেখালেখি থেমে থাকে না। পত্রপত্রিকায়, অনলাইনে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়, কখনও বা ব্যক্তিগত একটি ডায়েরিতে দিনশেষে কিছুনা কিছু লিখে রাখি। লেখালেখির মাধ্যমে অনলাইন মাধ্যম গুলো এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। যার বেশিরভাগই দখল করে আছে ব্লগ ও ফেসবুক। ফেসবুকটা শুধু প্রতিদিনের জন্য। এখানকার লেখাপড়ার পরিসর সীমিত বলা চলে।নামই যেহেতু ফেসবুক তাই এর মূল আকর্ষণ হলো ফেস। লাইক-কমেন্ট-শেয়ার;তারপর পোস্ট এর মর্যাদা কমে যাবে পরবর্তী পোস্ট দেয়ার সাথে সাথেই।

কিন্তু যিনি লেখেন তিনি চান তার ভাবনার জগতটা আরো বিস্তৃত হোক। তার লেখাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে যাক।পড়ার পর পাঠকের কাছে তার লেখাটি কতটুকু সমাদৃত হয়েছে বা পাঠকের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে কিনা সেটা জানার প্রতিও লেখক এর মাঝে একটা আগ্রহ থাকে।আর এই আগ্রহটা শুধুমাত্র ফেসবুকে লিখে কখনোই মিটবে না।

নারী ব্লগে প্রকাশিত লেখাটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে যাবে পাঠক থেকে পাঠকে। এখানে পাঠকগণ লেখক এর নাম পরিচয় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেনা‌। পক্ষপাতিত্ব নেই। লাইক- রিয়েক্ট এর পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিযোগিতার অবকাশ নেই। এখানে লেখক নিজে লেখেন,পাঠ করেন, নিজের লেখার বিশ্লেষণ করে দেন বুঝতে না পারা পাঠকের মন্তব্যের জবাবে। এখানে পাঠকও লেখক। পাঠক লেখাটি নিজ আগ্রহে পড়েন, মতামত দিয়ে প্রকাশ করেন তার পাঠ-প্রতিক্রিয়া‌।

ফেসবুককে যদি দৈনন্দিন খোঁজ-খবরের জগত হিসেবে ধরি,বা বাড়ির ঘর-উঠোন বলি, তাহলে ব্লগকে আমরা বলতে পারি লেখক-পাঠকের মিলন মেলা। একটি ফ্ল্যাটে বা বাড়িতে একটি পরিবার থাকে। কিন্তু একটি মিলনমেলায় কত পরিবার অংশ নেয় তা গুনে শেষ করা যাবে না।নারী ব্লগ স্বাধীন ব্লগারদের বিচরণ করা সমস্ত ব্লগের মাঝে অন্যতম। কারণ এই ব্লগের নীতিমালা,আভ্যন্তরীণ সুবিধা, বিভাগসমূহ, কারিগরি দিক, আনলিমিটেড পাঠকসংখ্যা, কোন্দল মুক্ত পরিবেশ, অন্য যেকোনো ব্লগ থেকে উন্নতমানের। এছাড়া নারীর কিছু আলাদা বৈচিত্র ব্লগটিকে ভিন্ন রূপে প্রকাশিত করেছে।

কাছের-দূরের যারা লেখালেখি বা ব্লগিং করতে ইচ্ছুক তাদেরকে নারী ব্লগ পরিবারে স্বাগতম। আসুন, লিখুন। নারী ব্লগের এই সুন্দর উঠোনে সবাইকে আমন্ত্রণ।